মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে প্রেরিত নতুন শান্তি উদ্যোগটি তিনি পর্যালোচনা করবেন। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট নয় বরং সংশয়ী।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ইরানের পাঠানো পরিকল্পনা শিগগিরই তার বিবেচনায় নেওয়া হবে। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, তার পরিণতি হিসেবে তেহরান এখনো জবাবদিহিতার আওতায় আসেনি। এ প্রেক্ষাপটে উক্ত প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধে একটি ১৪ দফা প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে জমা দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এ প্রসঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের বলেন, বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৯ দফার একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা দেয়, যেখানে আলোচনার জন্য ২ মাস সময় প্রস্তাব করা হয়। তবে ইরান এই সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, যেকোনো সমাধান হতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ কূটনৈতিক বিনিময় চলমান থাকলেও গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা বৈঠকটি পক্ষগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত দাবির কারণে ব্যর্থ হয়।
ইরানের নতুন প্রস্তাবে বেশ কিছু কঠোর শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
- ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা;
- ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার;
- ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ও সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল;
- বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া;
- লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে জারি যুদ্ধের অবসান।
ট্রাম্পের সর্বশেষ বিবৃতি ইঙ্গিত দেয় যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি। এই মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
দবানি/মে-২০২৬