ভদ্রলোকের নাম জিয়াউল করিম, জাপানে করিম নামে পরিচিত —————-

 করিম ব্র্যান্ডের চা আছে জাপানে। উনি উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। পেঁপে পাতা, পুদিনা পাতা সহ পাঁচ ধরণের পাতা শুকিয়ে তৈরি করেন চা পাতা। ওকায়ামা নামক এক সিটি তাঁর চা বাজারজাত করেছিলেন। থেমে নেই শুধু চা পাতাতে। দেশীয় সবজি লাউ, কুমড়া, পেঁপে, কাঁচামরিচ, ধনিয়া পাতা তৈরি করছেন জাপানের মাটিতে। বাজারে ছাড়েন আবার বন্ধুদের মধ্যেও বিলিয়ে দেন। আমি বলি সুখ বিলিয়ে দেন।
এবার এক জাপানিকে নিয়ে এসেছেন। ৫০০ কিমি দুর থেকে। বুলেট ট্রেনে দেড় ঘণ্টার পথ। বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান। বাংলাদেশে ভাষার স্কুল খুলতে চান।
বললাম, ভাষার স্কুল তো অনেক আছে।
-তা আছে। কিন্তু কোয়ালিটি স্কুল নেই।
তা নেই। জব পাওয়া যাবে এমন গ্যারান্টি থাকলে ভাষা আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য কোন ব্যাপার না।
কোথায় চাকুরী হতে পারে তাঁর উদাহরণ টানতে গিয়ে বললেন, জাপানে প্রচুর বাস ড্রাইভার দরকার। ভাষা আর ড্রাইভিং ম্যানার শিখিয়ে আনলে চাকুরীর অভাব নেই।
কথা এগিয়ে গেল। বললাম, এটা উইন উইন করা যাবে। বাংলাদেশে তৈরি হোক বাস ড্রাইভিং স্কুল। বাস ড্রাইভার আমাদের দেশেও আছে। কিন্তু কোয়ালিটি ড্রাইভার নেই। আপনারা কোয়ালিটি এনশিওর করে সার্টিফিকেট দেন। এই সার্টিফিকেটের মূল্য অনেক। দেশে কোয়ালিটি ড্রাইভার তৈরি করতে পারলে দেশেও কাজে লাগবে, বিদেশেও ড্রাইভার রফতানি করা যাবে। উনি হোমওয়ার্ক পেয়ে গেছেন। বাস ড্রাইভিং স্কুলের সাথে অলরেডি কথা বলা শুরু করেছেন।
বলেন তো জাপানের একজন বাস ড্রাইভার কত গুলো কাজ করেন? জাপানের বাসগুলো ওয়ান ম্যান অপারেটেড। বাস চালান, যাত্রী ওঠান, প্রতিবন্ধীদেরও ওঠান, যাত্রী নামান, বাস পরিষ্কার করেন, ভাড়া নেন। দিন শেষে হিসাব করে টাকা জমা দেন। মাঝে রিপোর্ট লিখেন- আর কি করিলে বাস সার্ভিস আরো জনগণ-বান্ধব করা যায়। শেষের রিপোর্ট এর কাজটা ছাড়া বাকিগুলো আমাদের দেশের ড্রাইভারদের ট্রেইনিং দিলে দক্ষ ড্রাইভার তৈরি করা সম্ভব।
আজ নিজের রাধা লাউ খেলাম। ডাল দিয়ে রান্না করেছি। রান্না শেষ করার কয়েক সেকেন্ড আগে ধনিয়া পাতা আর কাঁচা মরিচ কুচি করে ছেড়ে দিয়েছি। শীতকালের ঘ্রাণ পাচ্ছি। ধন্যবাদ করিম ভাই। এতো কিছু নিয়ে আসার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *