১৬ বছরে ক্রসফায়ারে ২২৭৬ হত্যার অভিযোগ বিএনপির, প্রধান আসামি হাসিনা
গত ১৬ বছরে সারাদেশে ২ হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ এনেছে বিএনপি। এছাড়া ১৫৩ জনকে গুমের অভিযোগের আরেকটি অভিযোগও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে দাখিল করেছে বিএনপি। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেন দলটির মামলা, গুম,খুন তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা মো. সালাহউদ্দিন খান পিপিএম। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম জাহিদ।
অভিযোগ দাখিলের পর সালাহউদ্দিন খান একটি তালিকা দেন।এ তালিকা অনুসারে সবচেয়ে বেশি ক্রসফায়ার হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা কক্সবাজারে। এ জেলায় গত ১৬ বছর তথা ২০০৮ সাল থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্রসফায়ার হয়েছে ২০০টি। আর সবচেয়ে কম হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা শেরপুরে। সেখানে মাত্র একটি হয়েছে। তবে এ তালিকায় মানিকগঞ্জ,গোপালগঞ্জ, বান্দরবান, নওগাঁ, পঞ্চগড় ও পিরোজপুরের নাম নেই।
সেই তালিকায় চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম মহানগরে ১৯ জন, কুমিল্লায় ৭৩, ফেনীতে ৫৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮, রাঙ্গামাটিতে ৭, নোয়াখালীতে ৫৪, চাঁদপুরে ৩৮, লক্ষ্মীপুরে ৮৮, চট্টগ্রামে ১০৪, কক্সবাজারে ২০০ ও খাগড়াছড়িতে ৫ জনের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিভাগের বান্দরবান জেলার তথ্য তালিকায় নেই।
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী মহানগরে ৪৩ জন, সিরাজগঞ্জে ৪২, পাবনায় ৪৪, বগুড়ায় ১৭, রাজশাহীতে ৩৩, নাটোরে ২১, জয়পুরহাটে ২৬ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৯ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিভাগের নওগাঁ জেলার তথ্য তালিকায় নেই।
খুলনা বিভাগের যশোরে ৮৮ জন,সাতক্ষীরায় ৫১, মেহেরপুরে ৩৭, নড়াইলে ৮, চুয়াডাঙ্গায় ১৬, কুষ্টিয়ায় ৬২, মাগুরায় ১১,খুলনায় ৫৪,বাগেরহাটে ২৮ এবং ঝিনাইদহে ৫৯ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠিতে ২ জন, পটুয়াখালীতে ৯, বরিশালে ১১, ভোলায় ১২ এবং বরগুনায় ৮ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিভাগের পিরোজপুর জেলার তথ্য তালিকায় নেই। সিলেট বিভাগের সিলেটে ১১ জন, মৌলভীবাজারে ৫, হবিগঞ্জে ৬ এবং সুনামগঞ্জে ৪ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগের ঢাকা মহানগরে ৫২ জন, নরসিংদীতে ১১, গাজীপুরে ২১, শরীয়তপুরে ৮, নারায়ণগঞ্জে ১৫, টাঙ্গাইলে ১৫, কিশোরগঞ্জে ৭, ঢাকায় ৮, মুন্সিগঞ্জে ২৬, রাজবাড়ী ১১, মাদারীপুর ৬, ফরিদপুরে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ তালিকায় এ বিভাগের গোপালগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের তথ্য নেই।
রংপুর বিভাগের দিনাজপুরে ১৮ জন, লালমনিরহাটে ১০, নীলফামারী ৯, গাইবান্ধা ২৮, ঠাকুরগাঁও ১৭, রংপুর ২৬ এবং কুড়িগ্রামে ৬ জনের কথা রয়েছে। তবে এ বিভাগের পঞ্চগড় জেলার নাম তালিকায় নেই। ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুরে ১, ময়মনসিংহে ৫৪, জামালপুরে ১১ এবং নেত্রকোণায় ৫ জনের নাম রয়েছে।
দাখিল করা অভিযোগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অবৈধ ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকার ও কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অপহরণপূর্বক নির্যাতন করে, গুম করে দিনের পর দিন রেখে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করে।
অভিযোগ দায়েরের পর মো. সালাউদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার গত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দুই হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারে নিয়ে হত্যা করেছে। শুধু তা-ই নয়, অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিএনপির একের পর এক নেতাকর্মীকে গুম করেছে। এখন পর্যন্ত ১৫৩ জনকে গুমের খবর আমাদের কাছে আছে। তাদের মধ্যে অনেকে এখনো গুম আছে।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
আইনজীবী নুরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনায় এসেছি। বাংলাদেশের মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়, গুম-ক্রসফায়ারের যারা শিকার হয়েছে, তারা এবং তাদের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সেই জন্য আজকে আমরা এখানে এসেছি। বিএনপি গুম-ক্রসফায়ারের শিকার ব্যক্তি-পরিবারের পাশে থেকে এই পদক্ষেপটা নিয়েছে। আগামীতে এই দেশে যাতে এ ধরনের স্বৈরশাসক তৈরি না হয়।
এ দুই অভিযোগ দায়েরের পর তা গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান। প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ জানান, এ পর্যন্ত মোট ২৩৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে প্রসিকিউশনে। তার মধ্যে গুমের অভিযোগ ৭৮টি।
দৈনিক বিডি নিউজ / সাইফুল