রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়াসহ তিনটি আইনে ১০ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদফতর।
সিনিয়র ক্যামিস্ট হাবিবুল বাসার বাদী হয়ে কুষ্টিয়ার পরিবেশ আদালতে এসব মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদিপুরের এবিসি ব্রিকসের মালিক সাখাওয়াত মোল্লা, এমবিএল ব্রিকসের আজাহার, আরএফএল ব্রিকসের ইকবাল হোসেন, এমআরবি ব্রিকসের পান্না ইসলাম, ভিআইপি ব্রিকসের ওয়াসিম উদ্দিন, এজেডবি ব্রিকসের শাহাবুদ্দিন, আরজেডবি ব্রিকসের রবিউল, এএসবি ব্রিকসের শরিফুল ইসলাম, একতা ব্রিকসের বকুল ও ফাইভ আর ব্রিকসের জাকির।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর কুমারখালীর পদ্মা নদী বেষ্টিত চরসাদিপুর ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসন। কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলার তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র্যাব, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের ১০০ জনের একটি সুসজ্জিত দল উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের ভোমরার মোড়ে গেলে অবৈধ ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা তাদের অবরুদ্ধ করেন। অভিযান পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়ে তিন ঘণ্টা পর ‘আগামী বছর আর অবৈধ ভাটা চলাব না’ মর্মে ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে ফিরে যান প্রশাসনের লোকজন। এর দু’দিন আগে কুষ্টিয়ার মিরপুরে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে মালিক ও শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন পরিবেশ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টা নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করেই কুষ্টিয়ায় ফিরে আসতে বাধ্য হন তারা।
মামলার বাদী হাবিবুল বাসার জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ এবং দণ্ডবিধি ৩৫৩ সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
হাবিবুল বাসার বলেন, কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদফতরের এ ধরনের মামলা এবারই প্রথম। শিগগিরই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে বাধার মুখে পড়লে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মামলার আসামিদের একজন একতা ব্রিকসের বকুল বলেন, ঘটনার দিন আমি ইটভাটাতেই ছিলাম। আমরা প্রশাসনকে অভিযান পরিচালনা করতে কোনও বাধা দিইনি। এরপরও আমাদের নামে কেন পরিবেশ অধিদফতর মামলা দিল তা বুঝলাম না।