অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত রামরাই দীঘি

 

শীত শুরু হলেই দলবেঁধে চলে আসে তারা। পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠে চারপাশ। যা দেখতে ভিড় করেন দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসা পাখিপ্রেমীরা। বলছি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার রামরাই দীঘির কথা। যেখানে প্রতিবছর শীতে আসে একঝাক অতিথি পাখি। পুরো দীঘির জলাশয় সেজেছে এক নতুন সাজে। স্থানীয় প্রশাসন বলছেন পাখিদের নিরাপত্তার বিষয়ে লক্ষ্য রাখছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাণীশংকৈল উপজেলা। এই উপজেলায় অবস্থিত প্রাচীন রামরাই দীঘি। প্রতিবারের মতো এইবারও এই দীঘিতে ভিড় জমিয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ রামরাই দীঘিটি যেন অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত। ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির সমাগম হয়েছে এখানে। যা দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাখি প্রেমিকরা।

পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর উড়াউড়ির দৃশ্যধারণের চেষ্টায় মেতেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ আবার নৌকায় চড়ে পাখিদের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তুলছেন সেলফিও। রামরাই দীঘিতে অতিথি পাখির অবাদ বিচরণ এখন নজর কেড়েছে সবার।

অতিথি পাখি দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। তবে পাখিগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে পাখি দেখতে এসেছেন আব্দুল্লাহ আল সুমন। তিনি বলেন, এবারে প্রথম আসলাম পাখি দেখতে। এসে দেখি অনেক পাখি এসেছে। পাখিগুলো সুন্দর করে একসাথে উড়ে যচ্ছে আবার এসে পানিতে বসতেছে। অনেক সুন্দর লাগলো।

হরিপুর থেকে পাখি দেখতে এসেছেন ওমর ফারুক সহ তার বন্ধুরা। তারা বলেন, পাখিগুলো প্রতিবারে শীতের সময় আসে। তবে অনেকে এগুলো শিকার করতে চায়। পাখিগুলো যাতে এখানে নিরাপদে থাকতে চায় সেজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান বলেন, অতিথি পাখি কেউ যেন শিকার করতে না পারে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই রামরাই দীঘি এই এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী দীঘি। আমাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় এটা নজরে রাখি।

উল্লেখ্য, প্রায় ৪২ একর জমি জুড়ে রামরাই দীঘিটি অবস্থিত। আর এখানে প্রতিদিন দর্শনার্থী আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

 

দৈনিক বিডি নিউজ / সাইফুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *