চুয়াডাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে শব্দদূষণ রোধে সচেতনতামূলক মানববন্ধন ও পথসভা

বাংলাদেশে শব্দের তীব্রতা মানমাত্রা ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। কার্যকর তেমন উদ্যোগ না থাকায় শব্দদূষণ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নীরব ঘাতক শব্দ দূষণ দিন দিন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা রোধ করতে জনসচেতনতা তৈরি  ছাড়া কোনো উপায় নেই।শব্দদূষণের কারণ ও ক্ষতি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বসুন্ধরা শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে ‘শব্দদূষণ  বন্ধ করুন’ শীর্ষক  সচেতনতামূলক মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মতোই  চুয়াডাঙ্গা জেলায়ও শব্দদূষণ বন্ধ হচ্ছে না বরং দিনে দিনে বাড়ছে। শব্দদূষণের ফলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, বধিরতা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, কম ঘুম হওয়া, হৃদ্‌রোগসহ নানা রকম সমস্যা দেখা যায়। স্বল্পমেয়াদী শব্দদূষণ মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি শব্দদূষণ শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ফলে বিরক্তি, নেতিবাচকতা, রাগ, ক্লান্তি, চাপা উত্তেজনা, মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিহার, ব্যক্তিগত ঝুঁকি বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি ও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়। অন্যদিকে উচ্চ শব্দ শিশু, গর্ভবতী মা, হৃদ্‌রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শব্দদূষণের ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আকস্মিক উচ্চ শব্দ মানবদেহের রক্তচাপ ও হৃদকম্পন বাড়িয়ে দেয়, মাংসপেশির সংকোচন করে, পরিপাকে বিঘ্ন ঘটায়, শিরা ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ দেয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি মানিক আকবর, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদর উদ্দিন, দামুড়হুদা উপজেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন, মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী, উদীচী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হাবিবি জহির রায়হান, নিরাপদ সড়ক চাই চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, বসুন্ধরা শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শেখ লিটন, সদস্য জামান আখতার, কিশোর কুমার কুন্ডু, আনোয়ার হোসেন, কানিজ সুলতানা, শামিম আহমেদ বিপ্লব, আখতার আলী, বহুলুল হাসান প্রমুখ।
মানবন্ধনে মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী বলেন, সড়কের পাশে যাদের বসবাস কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তারা প্রতিনিয়ত শব্দদূষণে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘরে ঘুমিয়ে থেকেও শান্তি মিলছে না। বৈধতা নেই এমন হর্ন অনেক যানবাহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। এ ব্যাপারে কঠোর আইনি পদক্ষেপ দরকার।
উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী’র সভাপতি হাবিবি জহির রায়হান বলেন, কোনো মাঠে কোনো জনসভা হলে মাঠে উপস্থিত লোকজন শুনতে পারবেন এমনভাবে মাইক বাজাতে হবে। তা না মেনে পুরো এলাকায় শত শত মাইক বেঁধে উচ্চমাত্রায় মাইক বাজানো হয়। এসব কারণে মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে।বসুন্ধরা শুভসংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি মানিক আকবর বলেন, যথাযথ আইন থাকার পরও শব্দদুষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে সরকারি উদ্যোগে অভিযান চললেও তা সন্তোষজনক নয়। শব্দদুষণের কুফল সম্পর্কে  মানুষকে সচেতন হতে হবে।

দৈনিক বিডি নিউজ / সাইফুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *