অভিষেক টেস্টে স্যাম কনস্টাসের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ ডেভিড ওয়ার্নার। তরুণ এই ওপেনার এভাবেই খেলা চালিয়ে যাবেন বলে মনে করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের মাঝেও একইরকম মনোভাব দেখতে চান দেশটির সাবেক এই ওপেনার।
চলতি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির মেলবোর্ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সুর বেঁধে দেন কনস্টাস। সিরিজের প্রথম তিন টেস্টে ব্যর্থ ন্যাথান ম্যাকসুয়েনির জায়গায় সুযোগ পেয়ে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬৫ বলে ৬০ রানের ইনিংসে অভিষেকের উপলক্ষ রাঙান ১৯ বছর বয়সী ওপেনার। তার চেয়ে কম বয়সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ফিফটি আছে কেবল একজনের। ৫২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে কনস্টাস গড়েন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারদের মধ্যে টেস্ট অভিষেকে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।
এই সিরিজে যার বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ভুগছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা, সেই জাসপ্রিত বুমরাহকে স্কুপ ও রিভার্স স্কুপ শট খেলে এলোমেলো করে দেন তিনি। ভারতের তারকা পেসারের একই ওভারে নেন ১৮ রান। বিগ ব্যাশে সিডনি থান্ডারের সতীর্থ কনস্টাসকে নিয়ে গর্বিত ওয়ার্নার। মেলবোর্ন রেনেগেডসের বিপক্ষে ৫৭ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলার পর ৩৮ বছর বয়সী ওপেনার বলেন, বুমরাহর বিপক্ষে ভালো করতে চাইলে ভিন্ন কিছুই চেষ্টা করতে হবে।
ওয়ার্নার বলেন, “খুবই স্পেশাল ইনিংস ছিল। লোকজন তার সমালোচনাও করবে…তবে সে এভাবেই খেলবে। যখন বুমরাহর মতো কেউ বোলিং করে, তখন যে কোনোভাবে চেষ্টা করতে হবে এবং কার্যকর করতে হবে।”
গত অক্টোবরে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করে সাড়া ফেলে দেন কনস্টাস। ১৯৯৩ সালে রিকি পন্টিংয়ের পর সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে শেফিল্ড শিল্ডে এক ম্যাচে দুই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি। পরে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে আনঅফিসিয়াল টেস্টে খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস। এরপর ভারতের বিপক্ষে প্রাইম মিনিস্টার’স একাদশের হয়ে করেন সেঞ্চুরি। বিগ ব্যাশ অভিষেকে করেন ২৭ বলে ৫৬ রান।
মেলবোর্ন টেস্টে রোমাঞ্চকর জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি পুনরুদ্ধারে তাদের সামনে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন বুমরাহ। প্রথম চার টেস্টে ১২.৮৩ গড়ে তিনি নিয়েছেন ৩০ উইকেট। সিরিজে এখন পর্যন্ত উসমান খাওয়াজাকে পাঁচবার, ট্রাভিস হেড ও ম্যাকসুয়েনিকে চারবার করে, মিচেল মার্শ ও স্টিভেন স্মিথকে তিনবার করে আউট করেছেন তিনি।
বুমরাহর বিপক্ষে বিভিন্ন শট খেলে সাহসী ক্রিকেটের যে বার্তা দিয়েছেন কনস্টাস, অস্ট্রেলিয়ার অন্যদের তা অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন ওয়ার্নার। তিনি জানান, “টপ অর্ডারে তার মতো সাহসী খেলোয়াড় থাকায়, দলে এমন ছেলেরা আছে যারা ৫০ টেস্ট খেলেছে, তারাও সাহসী হতে পারত, তারা বিভিন্ন শট খেলতে পারত, ক্রিজের বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে ব্যাটিং করতে পারত।”
ওয়ার্নার জানান, “স্মিথ অনেক ভিন্ন কিছু চেষ্টা করেছে। টপ অর্ডারে অভিজ্ঞরা আছে, পুরো লাইনআপে অভিজ্ঞরা আছে। ট্রাভিস হেড দুর্দান্ত সেঞ্চুরি দিয়ে অ্যাডিলেইডে তাদের (ভারত) থেকে ম্যাচ বের করে নিয়েছিল… অন্যরাও সাহসী হতে পারে।”
দৈনিক বিডি নিউজ / সাইফুল