সদ্যজাত কন্যার জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদ। বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে তার ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে থানায় সোপর্দ করা হলে, সেখান থেকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। গেল শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় মারা যান মাসুদ।
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলে নেটিজেনরা। শুধু তাই নয়, মাসুদ হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও তুলেছেন তারা। ভাইরাল এই ভিডিওটি নজর এড়াতে পারিনি বরেণ্য নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর।
প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এই নির্মাতা বলেন, ‘রাজশাহীর ঘটনাটা মনটা দুমড়ে-মুচড়ে দিল। ছোট বাচ্চাটার দিকে কি আমরা তাকাতে পারব? যদি তার বাবা অপরাধ করেও থাকে, কে মবকে লাইসেন্স দিল বিচার করার?’
তিনি আরও বলেন, ‘মবরাজ থামান। শৃঙ্খলা আনেন। না হলে কোনো সংস্কার কাজে আসবে না। আমি জানি, পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হইছে। কিন্তু এর সমাধানের পথে তো হাঁটতে হবে। সবাই ঐক্য ধরে রেখে মববাজি থামাতে হবে। পুলিশকে আরও কনফিডেন্স দিয়ে এঙ্গেজ করতে হবে। বিপ্লবের কৃতিত্ব কার, কে ক্রিম খাবে, কাকে ঠেকায়া কাকে উঠাতে হবে এটা পরেও করা যাবে। এখন এইটা নিয়া বিজি থাকলে বিশৃঙ্খলাই কেবল বাড়বে। ফ্যাসিস্ট শক্তি এটাই চায়। এখন ভাবেন তার চাওয়া পূরণ করবেন নাকি ইফেকটিভ সরকার কায়েম করবেন। প্লিজ…।’
সবশেষে ফারুকী বলেন, ‘আপনারা যারা এসব করছেন, তাদের উদ্দেশে বলি, এইসবের মধ্যদিয়ে আপনারা যে ভয়ানক অপরাধই করছেন তা না, একই সঙ্গে দেখেন আপনারা সবাইকে কোন আলাপে ব্যস্ত করে দিতেছেন? অথচ আমাদের আলাপ হওয়ার কথা ছিলো ফ্যাসিস্ট শক্তির অপকর্মের শ্বেতপত্র, রিফর্ম এবং জনগনের অংশগ্রহণে একটা কার্যকর গণতন্ত্র!’