মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা করা হয়।
এর আগে সোমবার নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানাধীন মৌলভীবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাইফুল্ল্যাহ ওরফে খালেদ (২৮) উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর হাজীপুর এলাকার চিরণভূঁইয়ার নতুন বাড়ির আব্দুল কাইয়ুম লিটন ওরফে ডিশ লিটনের ছেলে। নিহত শাহনাজ আক্তার পিংকি (৩০) উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর হাজীপুর এলাকার নোয়াবাড়ির কুয়েত প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলের জননী।
জানা গেছে, পারিবারিকভাবে ১৬ বছর আগে পিংকির সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। খালেদ পিংকির দূর সম্পর্কের চাচাতো দেবর এবং একই বাড়ির বাসিন্দা। বছর খানেক আগে পিংকির ব্যবহৃত মোবাইল নষ্ট হয়ে যায়। স্বামী প্রবাসে থাকায় তার বড় ছেলের মাধ্যমে সেটি বাজার থেকে ঠিক করে আনতে দেন খালেদকে। ওই সময় খালেদ মোবাইল থেকে পিংকির স্বামীকে পাঠানো ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নিজের মুঠোফোনে নিয়ে নেন। এরপর ওই ছবি ও ভিডিও দিয়ে পিংকিকে ব্ল্যাকমেইল করে সাত লাখ টাকা আদায় করেন। একই কায়দায় পরকীয়া ও শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা চালান। এরপর আরও টাকা দাবি করেন এবং পরকীয়ায় ব্যর্থ হয়ে গত মঙ্গলবার ১৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মাইল্যা বাদশা মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে পিংকিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন খালেদ। একই সময়ে আসামি পিংকির শ্বশুর রেজাউল হককেও (৮০) কুপিয়ে জখম করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত খালেদ ফেনী থেকে বাস যোগে সরাসরি রাজধানী ঢাকার কাকরাইল জামে মসজিদে গিয়ে তাবলিগ জামায়াতে যোগ দিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় তিন দিন তাবলিগ জামায়াত সম্পন্ন করে নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার মৌলভীবাজার এলাকার নলুয়া জামে মসজিদে গিয়ে তাবলীগে জামায়াতে যোগ দেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নির্ণয় করে। পরে সোমবার নলুয়া জামে মসজিদে তাবলীগ জামায়াত শেষ পর্যায়ে অপর মসজিদে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/একেএ