পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর চারটি পয়েন্টে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে করে প্রতিদিন সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি এবং কিছু গণমাধ্যম কর্মী এই চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে বালু উত্তোলনকে মদদ দিচ্ছেন। ফলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না।গত কয়েকদিন ধরে পদ্মার তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দক্ষিণ সীমানা ঘেঁষা ফটু মার্কেট পয়েন্ট, নবীনগরঘাট পয়েন্ট, বিলকেদা পয়েন্ট এবং সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া চরে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখা গেছে।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্কেভেটর, ট্রাক্টর, ড্রাম ট্রাক ও স্টেয়ারিং টলি দিয়ে নদীর চর কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালু প্রতিদিন শতাধিক গাড়িতে করে বিক্রি করা হচ্ছে।বালু উত্তোলনের এই তিনটি পয়েন্টের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তানভির হাসান সুমন ওরফে আমেরিকান সুমন।স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ লাখ টাকার বালু বিক্রি করা হয়।বালু বহনকারী গাড়ির কারণে গ্রামের রাস্তা-ঘাট ভেঙে গেছে। ধুলাবালিতে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী মহল এবং প্রশাসনের মদদে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা বিএনপি কর্মী আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের উত্তোলিত বালুর একটি অংশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। ছাত্রদল সভাপতি তানভির হাসান সুমন এই বিষয়টি দেখছেন।ছাত্রদল সভাপতি তানভির হাসান সুমন বলেন, সকলকে ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন চলছে। চুক্তি অনুযায়ী টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।তবে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আকিবুল ইসলাম টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানিয়েছেন, যেসব জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেগুলো যদি সরকারি ইজারার আওতায় আনা যেত, তাহলে বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া যেত।ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, পদ্মা নদী থেকে বালু চুরি করে উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা ছিল না। শিগগিরই এ বিষয়ে অভিযান চালানো হবে।